সুস্মিতা_কুণ্ডু
...................................
-মা গো, বড্ড আঁধার। আলোটা নে’ আয় না শিগ্গিরি। ডর লাগে যে বড়।
-অ বৌ! দাওয়ায় কুপিটা জ্বাইল্যে বস্যে দে না গো। মেয়েটা যে আঁধারকে বড্ড ডরায়। শুনতি পাসনি না কি রে হতভাগী!
-ও বাপ! মা’রে বল না।
-অ বৈঁচীর মা! পুকুরঘাটকে গেলি নাকি? দ্যাকো দিকি। এই অ্যাতো রেতে কেউ ঘাটে যায়। কোতায় তেঁনারা থাকবেন কী লতারা থাকবেন সব। ছোবলালেই কম্ম সারা। অ বৈঁচী! তুই বোস দিনি এট্টু খাটিয়াটায়, এই ক্যাঁতাটা জইড়ে নে বেশটি করে।
একনো কালীপুজো হ’লুনি আর ঠাণ্ডা দ্যাকোনা কনকনিয়ে পড়েচে কেমন।
আমি একটু এগ্গে তোর মা’রে খুঁজে আসিখ’ন।
................
-ও ন’খুড়ী! আমাদের বৈঁচীর বাপকে দেকেচো? এদিক পানে এয়েচে মানুষটা?
-না লো ফুলবৌ। এ্যাত রাতে তাকে বেরোতে দিলি ক্যানে রে? একটা অগটন ঘটবে।
-অগটন আর কী লতুন করে হবে গো খুড়ী। যা হওয়ার তো হয়েই গ্যাচে। এই কালীপুজোর অমাবস্যার তিথিটি এলি পরেই মানুষটা কেমন করে গো খুড়ী। দরজায় শেকল দে’ আটকে রাকি। তাও শুনতি পাই মরা মেয়েটার সাতে কতা কইচে। কখন বলে তারে নাকি বাজী কিনে দেবে, কখন বলে দোকনেশ্বরে কালীঠাকুর দ্যাকাতে নে যাবে।
লোকটার মনেও নেই পাঁচ বচ্ছর আগে কালীপুজোর দিনটায় কী হয়েচিল গো খুড়ী।
-থাক ফুলবৌ। ও কতা মনে করিসনি।
-পারিনে যে খুড়ী, পারিনে। সবাই যকন তারাবাজী জ্বালচে, আলোয় আলোয় জমিন আকাশ ধবধব করচে, তকন মেয়েটাকে আমার টেইন্যে নে গেল আঁধার ঝোপেতে, শয়তানগুলো। পরদিন পুকুরে...
দ্যাকোনা, শিকলটা খোলা, দাওয়াতে খাটিয়া পাতা। লোকটা কোতাও নেই। সেই কখুন থেকে খুঁজচি।
........................
-ও ফুলজেঠি তুমি হেথা!
-কেন রে বিশু? কি হয়েচে?
-শিগ্গির যাও। ফুলজ্যাঠাকে পুকুরঘাটে সবাই দেকতে পেয়েচে ঠাকুর বিসজ্জন করতে গিয়ে। মনে হচ্চে বেশ খানিকক্ষণ আগেই ঝাঁপটা মেরে ছেল...
(সমাপ্ত)
...................................
-মা গো, বড্ড আঁধার। আলোটা নে’ আয় না শিগ্গিরি। ডর লাগে যে বড়।
-অ বৌ! দাওয়ায় কুপিটা জ্বাইল্যে বস্যে দে না গো। মেয়েটা যে আঁধারকে বড্ড ডরায়। শুনতি পাসনি না কি রে হতভাগী!
-ও বাপ! মা’রে বল না।
-অ বৈঁচীর মা! পুকুরঘাটকে গেলি নাকি? দ্যাকো দিকি। এই অ্যাতো রেতে কেউ ঘাটে যায়। কোতায় তেঁনারা থাকবেন কী লতারা থাকবেন সব। ছোবলালেই কম্ম সারা। অ বৈঁচী! তুই বোস দিনি এট্টু খাটিয়াটায়, এই ক্যাঁতাটা জইড়ে নে বেশটি করে।
একনো কালীপুজো হ’লুনি আর ঠাণ্ডা দ্যাকোনা কনকনিয়ে পড়েচে কেমন।
আমি একটু এগ্গে তোর মা’রে খুঁজে আসিখ’ন।
................
-ও ন’খুড়ী! আমাদের বৈঁচীর বাপকে দেকেচো? এদিক পানে এয়েচে মানুষটা?
-না লো ফুলবৌ। এ্যাত রাতে তাকে বেরোতে দিলি ক্যানে রে? একটা অগটন ঘটবে।
-অগটন আর কী লতুন করে হবে গো খুড়ী। যা হওয়ার তো হয়েই গ্যাচে। এই কালীপুজোর অমাবস্যার তিথিটি এলি পরেই মানুষটা কেমন করে গো খুড়ী। দরজায় শেকল দে’ আটকে রাকি। তাও শুনতি পাই মরা মেয়েটার সাতে কতা কইচে। কখন বলে তারে নাকি বাজী কিনে দেবে, কখন বলে দোকনেশ্বরে কালীঠাকুর দ্যাকাতে নে যাবে।
লোকটার মনেও নেই পাঁচ বচ্ছর আগে কালীপুজোর দিনটায় কী হয়েচিল গো খুড়ী।
-থাক ফুলবৌ। ও কতা মনে করিসনি।
-পারিনে যে খুড়ী, পারিনে। সবাই যকন তারাবাজী জ্বালচে, আলোয় আলোয় জমিন আকাশ ধবধব করচে, তকন মেয়েটাকে আমার টেইন্যে নে গেল আঁধার ঝোপেতে, শয়তানগুলো। পরদিন পুকুরে...
দ্যাকোনা, শিকলটা খোলা, দাওয়াতে খাটিয়া পাতা। লোকটা কোতাও নেই। সেই কখুন থেকে খুঁজচি।
........................
-ও ফুলজেঠি তুমি হেথা!
-কেন রে বিশু? কি হয়েচে?
-শিগ্গির যাও। ফুলজ্যাঠাকে পুকুরঘাটে সবাই দেকতে পেয়েচে ঠাকুর বিসজ্জন করতে গিয়ে। মনে হচ্চে বেশ খানিকক্ষণ আগেই ঝাঁপটা মেরে ছেল...
(সমাপ্ত)
No comments:
Post a Comment